দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃতরা হলেন, ডিবি পুলিশের ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল আউয়াল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জিয়াউর রহমানকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির পিরোজপুর পৌরসভার খানাকুনিয়ারি এলাকার বাসিন্দা এবং পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডিবি পুলিশ তাকে অমানবিক নির্যাতন করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে মারধরের পাশাপাশি স্পর্শকাতর স্থানে মোমের আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং মেসের আরেক কর্মচারী শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছেন। পরে চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয় বলেও দাবি করা হয়।
ডিবি ওসি মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নন। এদিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, ইউনুসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার গোপনাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে।
জে আই